শুরু কাউন্টডাউন, জোড়া বৈঠকে শুভেন্দু ! ভরসার কেন্দ্রে মোহন ভাগবত নাকি দিদি ?

দ্য কোয়ারি ওয়েবডেস্কঃ  রাজ্য রাজনীতির অন্দরে বিধানসভা ভোটের আগে শুরু হয়ে গিয়েছে ঘূর্ণিঝড়। শুভেন্দু অধিকারী দীর্ঘ টালবাহানার পর আজ মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। একইসঙ্গে ইস্তফা দিয়েছেন হলদিয়া উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান পদ এবং হুগলি রিভার ব্রিজ কমিশনের চেয়ারম্যান পদ থেকেও।

আপাতত তিনি শুধুমাত্র নন্দীগ্রামের বিধায়ক হয়ে থাকছেন বলে জানা যাচ্ছে তৃণমূল সূত্রে। তবে শুভেন্দু অধিকারীর আগামী রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী হবে সেটা নিয়ে কিন্তু প্রশ্ন উঠে গেল বঙ্গ রাজনীতির অন্দরে।

শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক ভবিষ্যত যখন প্রশ্নের মুখে তখন আরো একটি ইঙ্গিতপূর্ণ বিষয় উঠে এল। শুক্রবার বিকেলে কলকাতায় আসছেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত। সূত্রের খবর এদিনই মোহন ভাগবতের সঙ্গে কলকাতা বিমানবন্দরে বৈঠকে বসতে চলেছেন দাপটে তৃণমূল নেতা শুভেন্দু অধিকারী।

আরও জানা যাচ্ছে মোহন ভাগবতের সঙ্গে বৈঠকের পরই কার্যত শুভেন্দুর বিজেপি যোগের জল্পনায় শিলমোহর পড়তে পারে। তবে রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন, বিজেপিতে যোগ দিয়ে বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে এনআরসি এবং সিএএ নিয়ে কী অবস্থান হবে শুভেন্দু বাবুর?

http://sh103.global.temp.domains/~lyricsin/thequiry/suvendu-adhikari-resign-from-ministerial-level/

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তৃণমূল নেতার কথায়, মুর্শিদাবাদের মাটিতে দাঁড়িয়ে বিজেপির মত সংখ্যালঘুদের বাংলা থেকে বিতরণের হুমকি দিতে পারবেন তো? উত্তর দিনাজপুরের মাটিতে দাঁড়িয়ে এনআরসি ও সিএএ প্রসঙ্গে ভাষণ দিতে পারবেন তো? একইসঙ্গে নন্দীগ্রামের মাটিতে দাঁড়িয়ে বিজেপির ভোট বাক্স বাড়াতে পারবেন তো?

তিনি আরও বলেন, একদিন শুভেন্দু বিজেপির বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ তুলে রাজনৈতিক সভা করেছেন মমতা বন্দোপাধ্যায়ের পাশে থেকে। তাহলে আজ সেই ব্যক্তি যদি বিজেপিতে যোগদান করে সেই ইস্যুগুলোকে সমর্থন করেন, জনমানসে রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা থাকবে তো তাঁর?

কার্যত টালমাটাল এই পরিস্থিতিতে দিশাহীন অবস্থা তৃণমূলের। তবে তৃণমূলের সূত্রে খবর ব্যাটন ধরতে ময়দানে নামতে পারেন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে আজকে রাতেই কালীঘাটের বাড়িতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ডেকে পাঠিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারীকে। সেখানে গোপন বৈঠক হতে পারে উভয়ের মধ্যে। উঠে আসতে পারে সমস্ত অভাব-অভিযোগ এবং অনুযোগের কথাও। তবে এই বিষয়ে প্রকাশ্যে কেউই কিছু জানাননি।

প্রসঙ্গত শুভেন্দু বাবুর মন্ত্রীত্ব ছাড়া এবং বিজেপিতে যোগদানের বিষয়টি ভালোভাবে নেননি শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ অনেকেই। উল্লেখ্য, শুভেন্দু অনুগামী হিসেবে পরিচিত মুর্শিদাবাদের জেলা পরিষদের সভাধিপতি মোশারফ হোসেন এবং মালদা জেলা পরিষদের সভাধিপতি গৌড়চন্দ্র মন্ডল আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন কোনভাবেই তারা দল ত্যাগ করবেন না।

এখান থেকেই উঠে আসছে বিভিন্ন প্রশ্ন যারা আদতেই শুভেন্দুর অনুগামী হিসাবে থাকছেন তারা কতজনই বা শুভেন্দুর দলত্যাগের সঙ্গী হবেন?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তৃণমূল বিধায়কের কথায়, “উনি যদি বিজেপিতে যোগদান করেন, এর মাশুল ওনাকে দিতে হবে। তাঁর যা ভাবমূর্তি রয়েছে বিজেপিতে যোগদানের পর বাংলার মানুষ সেই আসন থেকে তাঁকে ছুঁড়ে ফেলে দেবে।”

http://sh103.global.temp.domains/~lyricsin/thequiry/2021-assembly-election_-bankura-visit-the-chief-minister-aims-to-win-the-dalit-vote/

তবে শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিত্ব ছাড়ার বিষয়ে কি বলছে অধিকারী পরিবার?

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে শিশির অধিকারী ও দিব্যেন্দু অধিকারি ছাড়ছেন না দল। এমনকি তারা ইস্তফা দিচ্ছেন না সাংসদ পদ থেকেও।

তৃণমূল সূত্রে খবর এখনই হাল ছাড়তে রাজি নয় তারা।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যখন বৈঠকে বসার কথা রয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর তখন কিছু না কিছু সূত্র নিশ্চিত বের হবে বলেই মনে করছেন দলের একাংশ।

তাদের মতে, দলনেত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কথা বললেই মিটাতে পারে সমস্যা। তবে একুশের নির্বাচনের আগে যদি কোন ভাবেই শুভেন্দু অধিকারী দলে থাকতে না চান, সে ক্ষেত্রে নির্বাচনী কৌশলে প্ল্যান বি রেডি রেখেছে তৃণমূল কংগ্রেস।

আপাতত শুভেন্দু বনাম তৃণমূলের দ্বন্দ্ব আর কত দুর এগোবে? নাকি আজকের বৈঠকের পরেই সমাপ্ত হবে তা সময়ের অপেক্ষা মাত্র।

সম্পর্কিত পোস্ট