দ্যা কোয়ারি ডেস্ক: অবশেষে তিহার জেল থেকে মুক্তি পেলেন দিল্লি দাঙ্গায় অভিযুক্ত তিনক ছাত্র-সমাজকর্মী দেবাঙ্গনা কালিতা, নাতাশা নরওয়াল এবং আসিফ ইকবাল তানহা। মঙ্গলবার দিল্লি হাইকোর্টের তরফে জামন মেলার পরেও জেলবন্দী থাকতে হয়েছিল তিন অভিযুক্তদের৷ অবশেষে মুক্তি পেলেন তাঁরা।
ইতিমধ্যেই দিল্লি হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেছে দিল্লি পুলিশ। শুক্রবার রয়েছে মামলার শুনানি। তার আগে দীর্ঘ সময় জলঘোলা হওয়ার পর অবশেষ তিহার জেল থেকে মুক্তি পেলেন তিন অভিযুক্ত।
২০১৯ সালে সংসদে নাগরিকত্ব সংশোধনি আইন পাশ করায় কেন্দ্র সরকার। দেশের একাধিক জায়গায় এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদস্থল গড়ে ওঠে। এরই মধ্যে দিল্লি দাঙ্গায় ৫০ এর জনের অধিক মৃত্যু হয়। সেই ঘটনায় বহুজনকে গ্রেফতার করা হয়। যাদের মধ্যে ছিলেন পিঞ্জরা তোড় সংগঠনের সদস্য দেবাঙ্গনা কালিতা, নাতাশা নরওয়াল এবং জামিয়া ইসলামিয়ার ছাত্র আসিফ ইকবাল তানহা। দীর্ঘ এক বছর ধরে জেল হেফাজতে ছিলেন তিন জন। মাথার ওপর ছিল ইউএপিএ।
মঙ্গলবার দিল্লি দাঙ্গায় অভিযুক্তদের শর্তসাপেক্ষে জামিন দেয় দিল্লি হাইকোর্ট৷ আদালতের তরফে ব্যক্তিগত ৫০ হাজার টাকা বন্ড এবং দুই জন সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে জামিন পান তিন জন। এমনকি তাঁদের পাসপোর্ট সহ অন্যান্য তথ্য জমা রাখার কথা বলা হয়। কিন্তু দিল্লি পুলিশের কাজের অগ্রগতি না হওয়ার কারণে জেলবন্দী ছিলেন তাঁরা। বুধবার অভিযুক্তদের অতিদ্রুত জেলমুক্ত করার দাবীতে নিম্ন আদালতের দ্বারস্থ হন। অন্যদিকে অভিযুক্তদের জেলমুক্তির জন্য সময় চায় দিল্লি পুলিশ৷ কিন্তু বিষয়টি খারিজ করে দেয় বিচারপতি রবীন্দ্র বেদী। কিন্তু আদালতে দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে গরমাগরম পরিস্থিতি তৈরি হয়৷
দিল্লি পুলিশের আইনজীবীর তরফে জানানো হয়, যেহেতু দিল্লি থেকে তাঁদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছিল তাই চার্জশিটে দিল্লির ঠিকানার উল্লেখ রয়েছে। আসল ঠিকানা বা পরিবারেরব ঠিকানার কথা উল্লেখ নেই। কিন্তু ততক্ষণে সময় পেরিয়ে গিয়েছে। তাই দ্রুত মুক্তির আবেদন চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয় তিন অভিযুক্তরা।
ফের অভিযুক্তদের দ্রুত মুক্তির দাবীতে দিল্লি হাইকোর্টে উপস্থিত হয় নাতাশাদের আইনজীবী। অবশেষে সেখান মুক্তি মেলে তিন অভিযুক্তদের।
